কাদিয়ানী কারা?

“কাদিয়ানী” শব্দটি অনেক শুনেছেন। কিন্তু তারা আসলে কী বিশ্বাস করে? সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত ১০টি প্রশ্নের সোজা উত্তর, কুরআন ও হাদীসের দলিলসহ। প্রতিটি উত্তরের নিচে পুরো আলোচনার লিংক।

১কাদিয়ানী কারা?

“কাদিয়ানী” নামটি এসেছে ভারতের পাঞ্জাবের একটি ছোট গ্রাম, কাদিয়ান থেকে। সেখানেই ১৮৩৫ সালে জন্মেছিলেন হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)। ১৮৮৯ সালে তিনি যে জামাত প্রতিষ্ঠা করেন, তার নিজের নাম আহমদীয়া মুসলিম জামাত। বিরোধীরা জায়গার নাম ধরে ডাকেন “কাদিয়ানী”; জামাতের সদস্যরা নিজেদের বলেন আহমদী মুসলমান।

২কাদিয়ানীরা কি মুসলমান?

তাঁরা পড়েন সেই একই কালেমা: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। একই কুরআন, একই পাঁচ ওয়াক্ত নামায, একই কিবলা, রমযানের রোযা, যাকাত আর হজ। মহানবী (সা.) নিজেই মুসলমানের সংজ্ঞা দিয়ে গেছেন: “যে আমাদের মতো নামায পড়ে, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করে আর আমাদের যবেহ করা পশু খায়, সে মুসলমান।” (সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৯১) আর কুরআনের নির্দেশ:

وَلَا تَقُوۡلُوۡا لِمَنۡ اَلۡقٰۤی اِلَیۡکُمُ السَّلٰمَ لَسۡتَ مُؤۡمِنًا
“…এবং যে তোমাদিগকে সালাম বলে, ‘তাহাকে বলিও না যে তুমি মো’মেন নহ।’…”
সূরা আন-নিসা ৪:৯৫

৩কাদিয়ানীদের কালেমা, কুরআন, নামায বা হজ কি আলাদা?

না। কোনো আলাদা কালেমা, আলাদা কুরআন, আলাদা নামায বা আলাদা কিবলা নেই। “তাযকিরা” নামের বইটি হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)-এর ইলহামের একটি সংকলন, যা তাঁর মৃত্যুর অনেক পরে ছাপা হয়েছে; এটি কুরআনের বিকল্প নয়। আর আহমদী মুসলমানরাও হজকে ইসলামের ফরয ইবাদত হিসেবেই মানেন।

৪কাদিয়ানীরা কি মহানবী (সা.)-কে শেষ নবী মানে?

হ্যাঁ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁরা খাতামান নাবিয়্যীন বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। তাঁর পরে আর কোনো নতুন শরীয়ত বা নতুন কিতাব আসবে না, কুরআনের একটি অক্ষরও বদলাবে না। প্রশ্ন শুধু “খাতাম” শব্দের পূর্ণ অর্থ নিয়ে, যা নিচের আয়াতে আছে:

مَا کَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنۡ رِّجَالِکُمۡ وَلٰکِنۡ رَّسُوۡلَ اللّٰہِ وَخَاتَمَ النَّبِیّٖنَ
“মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কাহারও পিতা নহে, কিন্তু সে আল্লাহ্‌র রসূল এবং নবীগণের মোহর…”
সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪১

৫মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী কে ছিলেন?

হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.) (১৮৩৫–১৯০৮) ছিলেন কাদিয়ানের একজন আলেম, যিনি ইসলামের পক্ষে খ্রিস্টান মিশনারি ও আর্য সমাজের বিরুদ্ধে কলম ধরে বিখ্যাত হন। তিনি দাবি করেন, মহানবী (সা.) যে প্রতিশ্রুত মসীহ ও ইমাম মাহদীর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, তিনিই সেই ব্যক্তি।

৬মির্জা সাহেব কি নিজেকে নবী দাবি করেছিলেন?

তিনি দাবি করেছেন মহানবী (সা.)-এর পূর্ণ আনুগত্যের মাধ্যমে একজন “উম্মতী নবী” হওয়ার, নতুন শরীয়তবাহী নবী নয়। মহানবী (সা.) নিজেই আগমনকারী মসীহকে “নাবিউল্লাহ” (আল্লাহর নবী) বলেছেন (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান, হাদীস ২৯৩৭)। তিনি বলেছেন, তিনি যা পেয়েছেন সবই মহানবী (সা.)-এর কাছ থেকে।

৭ঈসা (আ.) কি আকাশে জীবিত আছেন?

কুরআন বলে, মহানবী (সা.)-এর আগের সব রসূল গত হয়েছেন। মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের দিন হযরত আবু বকর (রা.) এই আয়াতটি পড়েছিলেন, আর সব সাহাবী তা মেনে নিয়েছিলেন:

وَمَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوۡلٌ ۚ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِ الرُّسُلُ
“এবং মুহাম্মদ কেবল একজন রসূল। তাহার পূর্বেকার সকল রসূল অবশ্যই মারা গিয়াছে।…”
সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৫

৮ইমাম মাহদী কি এসে গেছেন?

হাদীসে ইমাম মাহদীর একটি অনন্য নিদর্শনের কথা আছে: রমযান মাসে নির্দিষ্ট তারিখে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ। ১৮৯৪ সালের রমযানে ঠিক সেটিই ঘটেছিল, যখন একজন দাবিকারক উপস্থিত ছিলেন। আর হাদীস অনুযায়ী আগমনকারী মসীহ ও মাহদী আলাদা দুজন নন, একই ব্যক্তি।

৯কাদিয়ানীরা কি জিহাদ বাতিল করেছে?

না। তিনি শিখিয়েছেন, তরবারির জিহাদ কুরআনে অনুমোদিত শুধু তখন, যখন ধর্মের কারণে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়। সেই যুগে ধর্মের বিরুদ্ধে আক্রমণ চলছিল কলম দিয়ে, তাই তিনি কলম ও যুক্তির জিহাদকে প্রধান করেছেন। আর নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ সব যুগেই চলবে।

১০মির্জা কাদিয়ানী কিভাবে মারা যান? টয়লেটে?

হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.) ১৯০৮ সালের ২৬ মে লাহোরে অসুস্থ অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তখনকার সিভিল সার্জনের দেওয়া মৃত্যু-সনদে কারণ লেখা হয়েছিল ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা (ডিসেন্ট্রি)। “টয়লেটে মৃত্যু”-র গল্পের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই; পুরো ঘটনা ও প্রমাণ নিচের লিংকে।

নিজে যাচাই করুন

শোনা কথায় নয়, দলিল দেখে সিদ্ধান্ত নিন। প্রতিটি বিষয়ের পূর্ণ আলোচনা, কুরআন-হাদীসের মূল পাঠসহ, এই সাইটেই আছে। সরাসরি কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

কুরআনের আয়াত নম্বর আহমদীয়া গণনায়, যেখানে বিসমিল্লাহ প্রথম আয়াত। অনুবাদ: আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বাংলা কুরআন।Quran verse numbers follow the Ahmadiyya count, where Bismillah is the first verse.